করোনা প্রতিরোধে মাস্ক যেভাবে পরতে হবে

কোভিড-১৯ মহামারিকাল প্রায় দুই বছর অতিক্রম করে এখন বাংলাদেশে কিছুটা শিথিল ভাব দেখালেও এই দুর্যোগ যে দীর্ঘস্থায়ী হবে, বিজ্ঞানীরা সেই আভাস দিয়ে রেখেছেন।

কোভিডের টিকা ও মুখে খাওয়ার বড়ি ইতোমধ্যেই আবিষ্কার হলেও সংক্রমণ প্রতিরোধে তা যে শতভাগ কার্যকর নয়, ইতোমধ্যেই সে বিষয়টি প্রমাণ হয়েছে।সংক্রমণ রোধে সারাবিশ্বে একের পর এক লকডাউন দেওয়ার পর সেই পরিস্থিতিরও অবসান ঘটেছে।.তাই শুরু থেকেই বিশেষজ্ঞগণ সংক্রমণ প্রতিরোধে মাস্ক পরিধান করার যে পরমার্শ দিয়ে আসছিলেন, সেই মাস্কের ওপর এখনও গুরুত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তারা মাস্ক পরিধান করে পর্যাপ্ত সতর্কতা বজায় রেখে স্বাভাবিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়ার পক্ষেই মত দিচ্ছেন।

কিন্তু বিপত্তি ঘটছে মাস্ক ব্যবহারে সঠিক নিয়ম পালন করা নিয়ে। চিকিৎসকরা বলছেন–মাস্ক নির্বাচন ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে সঠিক নিয়ম অনুসরণ না করলে তা বরং একজন মানুষের আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলবে।

মাস্ক যেভাবে পরতে হবে:

  1. পরিধানের জন্য মাস্ক স্পর্শ করার আগে হাত ভালোভাবে জীবানুমুক্ত বা স্যানিটাইজ করে নিতে হবে।
  2. মাস্কটি নাক ও মুখের মাঝে এমনভাবে পরতে হবে যেন এর কোনো অংশ দিয়ে সরাসরি বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। কেবল মাস্কের মাধ্যমে ফিল্টার হয়েই যেন বাতাস শ্বাসনালিতে যায়।
  3. ব্যবহার শেষে মাস্ক খুলতে চাইলে সবার আগে হাত জীবানুমুক্ত করতে হবে। এরপর মাস্কের কাপড়ে হাতের স্পর্শ না করে কেবল হাতল বা কানের সঙ্গে বেঁধে রাখা রশি ধরে খুলতে হবে।

যা যা করা যাবে না:

  1. সার্জিকাল মাস্ক একবার ব্যবহারের পরে আর পরা যাবে না। ব্যবহারের পর ওই মাস্ক বর্জন করার বিষয়টি ব্যবহারকারী নিজে বা তার সেবায় নিয়োজিত ব্যক্তি নিশ্চিত করবেন।
  2. একজনের ব্যবহৃত মাস্ক কোনোভাবেই অন্য আরেকজন ব্যবহার করতে পারবে না।

খেয়াল রাখতে হবে:

  1. যতটা সম্ভব মাস্কের বাইরের অংশ স্পর্শ করা এড়াতে হবে।
  2. মাস্ক পকেটে রেখে দেওয়া কিংবা কথা বলার সুবিধার্থে টেবিলের ওপরে রেখে দেওয়া এড়াতে হবে।
  3. যিনি কোভিড সন্দেহভাজন অথবা কোভিড আক্রান্ত ব্যক্তির সেবায় নিয়োজিত, তাকে মাস্ক পরতে হবে।
  4. কারো জ্বর, সর্দি-কাশি থাকলে তার মাস্ক পরা উচিত।
  5. দুই বা তিন স্তর মোটা কাপড়ের যেসব মাস্ক রয়েছে সেগুলো ধুয়েও ব্যবহার করা যায়। কিন্তু প্রতিবার ব্যবহার করার পর তা সাবান-পানি দিয়ে ধুতে হবে।

Fact source: CDC

Scroll to Top