কিভাবে হাঁপানি থেকে মুক্ত থাকা যায়

হাঁপানি একটি দীর্ঘস্থায়ী রোগ। করোনার সময় হাঁপানিতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই এ সময় হাঁপানি রোগীদের আরও সতর্ক থাকতে হবে। হাঁপানি একটি দীর্ঘস্থায়ী সমস্যা যা শ্বাস নিতে অসুবিধা সৃষ্টি করে।

এটি একটি সমস্যা, যা মারাত্মকও বটে। হাঁপানির সমস্যা ব্যক্তিভেদে ভিন্ন হতে পারে। হাঁচি, কাশি, বুকে আঁটসাঁট ভাব, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া ইত্যাদি অ্যাজমার লক্ষণ।

যেসব রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব, অ্যাজমা বা হাঁপানি তার মধ্যে অন্যতম। অ্যাজমা ক্ষুদ্র শ্বাসনালির সংকোচনের কারণে হয়। যাদের অ্যাজমা আছে, তাদের শ্বাসনালি স্বাভাবিকদের তুলনায় বেশি সংবেদনশীল। যেসব উপাদান অ্যাজমাকে ত্বরান্বিত করে, সেগুলোকে অ্যাজমা ট্রিগার বলা হয়।

এই রোগের সঙ্গে অ্যালার্জিক রাইনাইটিস থাকতে পারে। সংবেদনশীল অ্যাজমা ট্রিগারের ফলে হাঁচি-কাশি হতে পারে।

অ্যাজমা ট্রিগার : যে উপাদানের সংস্পর্শে অ্যাজমা শুরু হয় বা বেড়ে যায়, সেগুলো রোগীভেদে একেক রকম।

♦ ধুলায় বসবাসকারী কীট ‘ধুলা মাইট’

♦ পুরনো আসবাবপত্র বা ঘরে জমে থাকা ধুলা, ধোঁয়া, স্প্রে, অ্যারোসল, সিগারেটের ধোঁয়া

♦ কম্বল, কার্পেট, টেডি বেয়ার

♦ পশুর পশম (যেমন—বিড়াল), বিভিন্ন পশু-পাখির ফার্মের ধুলা

♦ ফুলের পরাগ রেণু

♦ বিভিন্ন খাবার, যাতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সংবেদনশীলতা/অ্যালার্জি আছে (পুঁইশাক, কুমড়ো, চিংড়ি, ইলিশ প্রভৃতি)

♦ ঠাণ্ডা আবহাওয়া

♦ শ্বাসনালিতে ভাইরাস সংক্রমণ

♦ বিভিন্ন ওষুধ (বিটা ব্লকার, এনএসএআইডিএস, এসপিরিন)

♦ এক্সারসাইজ বা ব্যায়াম

♦ স্ট্রেস প্রভৃতি

অ্যাজমার কারণ

সঠিক কারণ এখনো খুঁজে বের করা সম্ভব হয়নি।

উপসর্গ:

♦ বুকের ভেতর বাঁশির মতো শব্দ হওয়া

♦ শ্বাসকষ্ট

♦ বুকে চাপ অনুভব করা

♦ দীর্ঘমেয়াদি শুষ্ক কাশি

করণীয়

♦ ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে ওষুধ সেবন, ইনহেলার ব্যবহার করা, পরামর্শ মেনে চলা

♦ নিজের বসবাসের রুম, কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা

♦ বিছানার তোশক, বালিশ, কম্বল কড়া রোদে শুকিয়ে ব্যবহার করা

♦ বিছানার চাদর, বালিশের কাভার, পর্দা পরিষ্কার রাখা

♦ নিজের অ্যাজমা ট্রিগার এড়িয়ে চলা

♦ মাস্ক ব্যবহার করা প্রভৃতি

♦ অ্যাজমা ছোঁয়াচে বা সংক্রমণ রোগ নয়। তাই শুধু অ্যাজমা হলে অ্যান্টিবায়োটিকের কোনো ভূমিকা নেই।

♦ ইনহেলার সর্বাপেক্ষা কার্যকর ও নিরাপদ চিকিৎসা। ইনহেলার সরাসরি শ্বাসনালিতে কাজ করে।

♦ গর্ভাবস্থায়ও চিকিৎসকের পরামর্শে অ্যাজমার ওষুধ ও ইনহেলার ব্যবহার করা যায়।

♦ সারা জীবন নয়, যত দিন অ্যাজমা থাকবে, তত দিন ইনহেলার এবং ওষুধ ব্যবহার করতে হবে। সুস্থ হওয়ার পরও অ্যাজমা ট্রিগারগুলো এড়িয়ে চলতে হবে।

তথ্যসূত্র : https://www.kalerkantho.com/online/lifestyle/2022/02/26/1123946

Scroll to Top