ডায়রিয়া – মূলত পেটের রোগ। এই রোগে আক্রান্ত হলে শরীর থেকে প্রচুর পরিমাণে জল বেরিয়ে যায়। পাতলা মল, যা কখনো কখনো শ্লেষ্মাযুক্ত,সঙ্গে পেট ব্যাথা,গা গুলিয়ে ওঠা এই উপসর্গ গুলি দেখা যায়। একদিকে যেমন শুধু ডায়েরিয়া হতে পারে আবার কখনও কখনও তা অন্যান্য উপসর্গের সঙ্গেও যুক্ত হতে পারে।
যার মধ্যে রয়েছে বমি বমি ভাব বমি, পেটে ব্যথা বা ওজন হ্রাস হওয়া। ডায়রিয়া সাধারণত স্বল্পস্থায়ী হয় কয়েক দিনের বেশি স্থায়ী হয় না। কিন্তু যখন ডায়রিয়া কয়েক সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয় তখন বুঝতে হবে যে অন্য কোনো সমস্যা আছে। যেমন সেগুলো হতে পারে আইবিএস (ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম )বা ক্রমাগত সংক্রমণ আইবিডি বা সিলিয়াক ডিজিজ অথবা অন্ত্রের প্রদাহ সহ অন্যান্য কঠিন ব্যাধি।
ডায়রিয়ার লক্ষণ: নিচের লক্ষণ এবং উপসর্গগুলি দেখা গেলে ধরে নেওয়া হয় একজন ব্যক্তি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়েছেন।
- পেট ফেঁপে থাকা।
- পেটে খিঁচুনি বা ব্যথা অনুভূত হওয়া
- বমি বমি ভাব।
- বমি হওয়া।
- জ্বর হওয়া
- তরল জলের মত মল।কখনো কখনো ফ্যানা সৃষ্টি হয়।
- মল আঁশটে দূর্গন্ধযুক্ত হয়ে থাকে।
- মলে অনেকসময় রক্ত দেখা যায়।
- মলে শ্লেষ্মা বের হয়ে আসা।
- ঘন ঘন মলত্যাগ।
ডায়রিয়ার জন্য ঘরোয়া প্রতিকার ডায়ারিয়ার সবথকে বড় পথ্য হল ওআরএস- এর জল।দুপুরে ভাতের সঙ্গে পাতলা ডালের জল,পাতলা লিকার চা খেতে পারেন। আসলে ডায়েরিয়ায় দেহ থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায় তাই জলের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য ঘন ঘন ওআরএস- এর জল খাওয়া দরকার।রাতের দিকে হালকা খাবার খাওয়া উচিত।
ডায়রিয়ায় কি খাবেন: ডায়রিয়া হলে জলের পরিমাণ বেশি আছে এ ধরনের খাবার বেশি খাওয়া দরকার। তরল জাতীয় খাবার যেমন ঝোল,জুস ইত্যাদি খান অবশ্যই প্রচুর জলপান করুন।আপনার মল স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসাতে শুরু করলে ধীরে ধীরে সেমিসলিড এবং কম ফাইবারযুক্ত খাবার আহারে যোগ করুন।
ডায়রিয়া হলে কি খাবেন না: কফি এবং অ্যলকোহল পানকে পুরোপুরি বিদায় জানান।কোনো রকম মশলাদার রিচ খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।গম এবং দুধের তৈরী খাবার এড়িয়ে চলুন।সোডা ক্র্যাকার, োস্ট ডিম না খাওয়ার চেষ্টা করুন।
ডায়রিয়া হওয়ার প্রধান কারণ: ডায়রিয়া অনেক কারণেই হতে পারে যার মধ্যে রয়েছে-
- পরজীবীর আক্রমণ যেগুলো খাবার বা জলের মাধ্যমে শরীরে প্রবেশ করে।
- ব্যাকটেরিয়া সংক্রমণ।
- খাদ্য অসহিষ্ণুতা বা ফুড অ্যালার্জির জন্য কিছু খাবারের জিনিস হজম করতে না পারা।
- ভাইরাসের সংক্রমণ।
- খাবারে এলার্জি (যেমন সিলিয়াক ডিজিজ, গ্লুটেন এলার্জি)
- ওষুধের প্রতিক্রিয়া।
অনেক সময় প্রচন্ড টেনশন থেকেও ডায়রিয়া হতে পারে।
কখন আপনার ডাক্তার দেখাতে হবে?
আপনি যদি একজন প্রাপ্তবয়স্ক হন এবং নিচের সমস্যগুলো অনুভব করেন তবে দেরি না করে অবশ্যই একজন ডাক্তারের কাছে যান।
- আপনার শরীর যদি জলশূন্য হয়ে পড়ে।
- যদি প্রচন্ড পেট বা মলদ্বারে ব্যথা অনুভব করেন।
- আপনার যদি রক্তাক্ত বা কালো মল ত্যাগ হয়।
- আপনার দেহের তাপমাত্রা 102 ডিগ্রী ফারেনহাইটের উপরে উঠে যায়।
একটানা 3 দিন ধরে চলতে থাকা ডায়রিয়ায় আক্রান্ত কিছু লোক অনিচ্ছাকৃতভাবেই প্রতিদিন 1 বা 2 পাউন্ড ওজন হারাতে পারে।
গবেষণা অনুসারে, ডায়রিয়া একটি সাধারণ হজম সমস্যা যা পৌষ্টিকপদার্থের শোষণের ক্ষমতাকে দুর্বল করে দেয় যার কারণে ওজন হ্রাস ঘটে।
সংক্রামক ডায়রিয়া প্রতিরোধের সাধারণ উপায়: সংক্রামক ডায়রিয়ার বিস্তার রোধ করতে আপনার নিম্নলিখিত স্বাস্থ্যবিধিগুলো মেনে চলা প্রয়োজন-
- হাইজিনের ব্যাপারটিকে মাথায় রেখে বার বার হাত ধুতে হবে। খাবার তৈরি করার আগে এবং পরে আপনার হাত ভালভাবে ধুয়ে নিতে হবে।
- টয়লেট ব্যবহার করার পর , ডায়াপার পরিবর্তন করার আগে এবং পরে, হাঁচি, কাশি এবং নাক ঝাড়ার পরে অবশ্যই আপনার হাত সাবান দিয়ে ধুয়ে নিতে হবে।
- হাতে সাবান লাগিয়ে কমপক্ষে 20 সেকেন্ডের জন্য রাখুন।এরপর হাত দুটি ঘষে একবার ধুয়ে নেওয়ার পর পুনরায় আরও কমপক্ষে 20 সেকেন্ডের জন্য আপনার হাত দুটি সাবান দিয়ে একসঙ্গে ঘষে পরিষ্কার জলে ধুয়ে নিন।
- সিঙ্কে যেতে না পারলে প্রয়োজনে অ্যালকোহল-ভিত্তিক হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে হাতের চেটোতে বেশ কয়েক ফোঁটা স্যানিটাইজার নিয়ে হাতের সামনে পিছন- উভয় পাশে ভালোভাবে ঘষে লাগিয়ে আপনার হাত জোড়া জীবাণুমুক্ত করে নেওয়া নিশ্চিত করুন।আর এমন একটি পণ্য ব্যবহার করুন যাতে কমপক্ষে 60% অ্যালকোহল থাকে।




